এক মাসের মধ্যে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক দরপতন

ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো জুনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়াতে পারে দৈনিক গড়ে ৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেল।

ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো জুনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়াতে পারে দৈনিক গড়ে ৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেল। সর্বশেষ অনলাইন বৈঠকে দেশগুলোর এ সিদ্ধান্তে সম্মত হওয়ার কথা ছিল বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক সূত্র জানিয়েছে। এ বৈঠকের আগে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মনোভাবের কারণে শুক্রবার জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। এছাড়া সপ্তাহভিত্তিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম কমেছে ৮ শতাংশ। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। মার্চের শেষ সপ্তাহের পর এটি ছিল সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন। খবর রয়টার্স।

সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষদিনে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৪ সেন্ট বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৬১ ডলার ২৯ সেন্ট। অন্যদিকে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৯৫ সেন্ট বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেলের মূল্য নেমেছে ৫৮ ডলার ২৯ সেন্টে।

ওপেক প্লাসভুক্ত আট দেশ গত মাসে মে মাসের জন্য পূর্ব পরিকল্পনার তুলনায় বেশি হারে একই পরিমাণ জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়িয়েছিল। ইউনাইটেড আইক্যাপের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ স্কট শেলটন বলেন, ‘বর্তমানে জ্বালানি তেলের বাজার পুরোপুরি ওপেককেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। এমনকি এতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনাও তেমন প্রভাব ফেলছে না।’

এদিকে রয়টার্স আগেই জানিয়েছিল, ওপেক প্লাসের নেতৃত্বদানকারী সৌদি আরব মিত্রদের ও শিল্প প্রতিনিধিদের জানিয়েছে, তারা আর বাজার সমর্থনে নতুন করে উত্তোলন কমাতে রাজি নয়।

এদিকে বিনিয়োগকারীরা চলতি সপ্তাহে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বিরোধে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক ছিলেন। শুক্রবার বেইজিং জানিয়েছে, তারা শুল্ক নিয়ে আলোচনার বিষয়ে মার্কিন প্রস্তাব যাচাই করছে।

অনিক্স ক্যাপিটাল গ্রুপের হেড অব রিসার্চ হ্যারি টচিলিনগুরিয়ান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নিয়ে কিছুটা আশাবাদ রয়েছে। যদিও এটি এখনো খুব প্রাথমিক স্তরে আছে।’

ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, ‘শুক্রবার শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম আরো বেশি কমেনি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান তথ্যানুযায়ী চাকরির সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় বেড়েছে।’

স্টোনএক্সের জ্বালানি তেল বিশ্লেষক অ্যালেক্স হোডস বলেন, ‘‌যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেল উত্তোলনের প্রবৃদ্ধি হ্রাসের ইঙ্গিত দীর্ঘমেয়াদে দামের পক্ষে সহায়ক হতে পারে।’

বেকার হিউজের তথ্যানুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেল রিগের সংখ্যা কমেছে। চলতি সপ্তাহে চারটি কমে মোট রিগের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭৯।

আরও